Exams Study Jobs Teachers Students

২৪তম বিসিএস প্রশ্ন - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

Bengali Lesson 20 Questions By University Of Dhaka

২৪তম বিসিএস প্রশ্ন - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে যারা পড়াশোনা বা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই পেজে 20টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নের সাথে সঠিক উত্তর এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া আছে, যা আপনার কনসেপ্ট ক্লিয়ার করতে সাহায্য করবে। মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন।

1. ‘বাঙ্গলা ভাষার ইতিবৃত্ত’ কে রচনা করেন?

ক) (ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
খ) (খ) সুকুমার সেন
গ) (গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ঘ) (ঘ) মুহম্মদ এনামুল হক
উত্তর: (গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থগুলো হলো- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৩১), বাংলা সাহিত্যের কথা (১৯৫৩), এবং বাঙ্গলা ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৬৫)। অন্যদিকে, ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Origin and Development of the Bengali Language' (ODBL) এবং 'ভাষা-প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ'।

2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গ্রন্থটি উপন্যাস?

ক) (ক) শেষের কবিতা
খ) (খ) বলাকা
গ) (গ) ডাকঘর
ঘ) (ঘ) কালান্তর
উত্তর: (ক) শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা: 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি রোমান্টিক উপন্যাস, যাকে কাব্যধর্মী উপন্যাসও বলা হয়। এর প্রধান চরিত্র অমিত, লাবণ্য ও কেতকী। 'বলাকা' (১৯১৬) কাব্যগ্রন্থ, 'ডাকঘর' (১৯১২) একটি सांकेतिक নাটক এবং 'কালান্তর' (১৯৩৭) একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ।

3. কাজী নজরুল ইসলামের নামের সাথে জড়িত ‘ধূমকেতু’ কোন ধরনের প্রকাশনা?

ক) (ক) কাব্যগ্রন্থ
খ) (খ) পত্রিকা
গ) (গ) উপন্যাস
ঘ) (ঘ) ছোটগল্প
উত্তর: (খ) পত্রিকা
ব্যাখ্যা: কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় ১৯২২ সালে 'ধূমকেতু' নামক অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এটি ছিল একটি গণমুখী ও রাজনৈতিক পত্রিকা। নজরুলের 'অগ্নিবীণা' কাব্যেও 'ধূমকেতু' নামে একটি কবিতা আছে।

4. জসীমউদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?

ক) (ক) রাখালী
খ) (খ) সোজন বাদিয়ার ঘাট
গ) (গ) নক্শী কাঁথার মাঠ
ঘ) (ঘ) বালুচর
উত্তর: (ক) রাখালী
ব্যাখ্যা: পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো 'রাখালী' (১৯২৭)। তার বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 'নক্শী কাঁথার মাঠ' (১৯২৯) এবং 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' (১৯৩৩) তার বিখ্যাত কাহিনীকাব্য।

5. ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?

ক) (ক) হাসান হাফিজুর রহমান
খ) (খ) জহির রায়হান
গ) (গ) শহীদুল্লাহ কায়সার
ঘ) (ঘ) আনোয়ার পাশা
উত্তর: (ঘ) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা: 'রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি বিখ্যাত উপন্যাস। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত। উপন্যাসটি তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রচনা করেন।

6. জঙ্গম-এর বিপরীতার্থক শব্দ কি?

ক) (ক) অরণ্য
খ) (খ) পর্বত
গ) (গ) স্থাবর
ঘ) (ঘ) সমুদ্র
উত্তর: (গ) স্থাবর
ব্যাখ্যা: 'জঙ্গম' অর্থ গতিশীল বা যা চলাচল করতে পারে। এর সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ হলো 'স্থাবর', যার অর্থ স্থির বা নিশ্চল।

7. ‘উৎকর্ষতা’ কি কারণে অশুদ্ধ?

ক) (ক) সন্ধিজনিত
খ) (খ) প্রত্যয়জনিত
গ) (গ) উপসর্গজনিত
ঘ) (ঘ) বিভক্তিজনিত
উত্তর: (খ) প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা: 'উৎকর্ষ' শব্দটি নিজেই একটি বিশেষ্য পদ। এর সাথে পুনরায় বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যোগ করা বাহুল্য দোষ। তাই 'উৎকর্ষতা' একটি প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধ শব্দ। এর শুদ্ধ রূপ হলো 'উৎকর্ষ' অথবা 'উৎকৃষ্টতা'।

8. তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে? —এখানে ‘না’ –এর ব্যবহার কি অর্থে?

ক) (ক) না-বাচক
খ) (খ) হ্যাঁ-বাচক
গ) (গ) প্রশ্নবোধক
ঘ) (ঘ) বিস্ময়সূচক
উত্তর: (গ) প্রশ্নবোধক
ব্যাখ্যা: এই বাক্যে 'না' অব্যয়টি হ্যাঁ-সূচক উত্তর বা সম্মতি প্রত্যাশা করে প্রশ্ন করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এটি বাক্যটিকে একটি প্রশ্নবোধক বাক্যে রূপান্তরিত করেছে।

9. কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস কোনটি?

ক) (ক) মৃত্যুক্ষুধা
খ) (খ) আলেয়া
গ) (গ) ঝিলিমিলি
ঘ) (ঘ) মধুমালা
উত্তর: (ক) মৃত্যুক্ষুধা
ব্যাখ্যা: 'মৃত্যুক্ষুধা' (১৯৩০) কাজী নজরুল ইসলামের রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস। 'আলেয়া' (১৯৩১), 'ঝিলিমিলি' (১৯৩০) এবং 'মধুমালা' (১৯৫৯) তার রচিত নাটক।

10. ‘মা যে জননী কান্দে’ কোন ধরনের রচনা?

ক) (ক) কাব্য
খ) (খ) নাটক
গ) (গ) উপন্যাস
ঘ) (ঘ) প্রবন্ধ
উত্তর: (ক) কাব্য
ব্যাখ্যা: 'মা যে জননী কান্দে' (১৯৬৩) পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের একটি কাহিনীকাব্য।

11. কোনটি ঠিক?

ক) (ক) সোজন বাদিয়ার ঘাট (উপন্যাস)
খ) (খ) কাঁদো নদী কাঁদো (কাব্য)
গ) (গ) বহিপীর (নাটক)
ঘ) (ঘ) মহাশ্মশান (নাটক)
উত্তর: (গ) বহিপীর (নাটক)
ব্যাখ্যা: 'বহিপীর' (১৯৬০) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি নাটক। 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' জসীমউদ্দীনের কাহিনীকাব্য, 'কাঁদো নদী কাঁদো' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস এবং 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের মহাকাব্য।

12. ‘কার মাথায় হাত বুলিয়েছ’ – এখানে ‘মাথা’ শব্দের অর্থ –

ক) (ক) স্বভাব নষ্ট করা
খ) (খ) স্পর্ধা বাড়া
গ) (গ) ফাঁকি দেওয়া
ঘ) (ঘ) কোনো উপায়ে
উত্তর: (গ) ফাঁকি দেওয়া
ব্যাখ্যা: 'মাথায় হাত বোলানো' একটি বাগধারা। সাধারণত এর অর্থ স্নেহ করা বা আদর করা। তবে এই বাক্যের পরিপ্রেক্ষিতে এর অর্থ হলো প্রতারণা করা বা ফাঁকি দেওয়া।

13. শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসটি সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়েছিল?

ক) (ক) পথের দাবী
খ) (খ) নিষ্কৃতি
গ) (গ) চরিত্রহীন
ঘ) (ঘ) দত্তা
উত্তর: (ক) পথের দাবী
ব্যাখ্যা: 'পথের দাবী' (১৯২৬) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব ও বিপ্লববাদকে উস্কে দেওয়ার অভিযোগে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার উপন্যাসটি বাজেয়াপ্ত করে।

14. কোন গ্রন্থটির রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী?

ক) (ক) আশা-আকাঙ্ক্ষার সমর্থনে
খ) (খ) ভবিষ্যতের বাঙালি
গ) (গ) উন্নত জীবন
ঘ) (ঘ) সভ্যতা
উত্তর: (খ) ভবিষ্যতের বাঙালি
ব্যাখ্যা: এস. ওয়াজেদ আলী (১৮৯০–১৯৫১) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং জনপ্রিয় গ্রন্থ হলো 'ভবিষ্যতের বাঙালি' (১৯৪৩)। এই গ্রন্থে তিনি বাঙালির জাতীয়তাবাদ, ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে দার্শনিক আলোচনা করেছেন।

15. নিত্য মূর্ধন্য-ষ কোন শব্দে বর্তমান?

ক) (ক) কষ্ট
খ) (খ) উপনিষৎ
গ) (গ) কল্যাণীয়েষু
ঘ) (ঘ) আষাঢ়
উত্তর: (ঘ) আষাঢ়
ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষায় কিছু শব্দ আছে যেখানে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ (ষ) ব্যবহৃত হয়, কোনো নিয়ম অনুসারে নয়। এগুলোকে নিত্য মূর্ধন্য-ষ যুক্ত শব্দ বলে। যেমন: আষাঢ়, ঊষা, ভাষা, পৌষ, মানুষ ইত্যাদি। 'কষ্ট' শব্দে ট-বর্গীয় বর্ণের আগে ষ হয়েছে, যা ষত্ব-বিধানের নিয়ম।

16. ‘ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে,’ বলেছেন-

ক) (ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) (খ) কাজী নজরুল ইসলাম
গ) (গ) বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ঘ) (ঘ) প্রমথ চৌধুরী
উত্তর: (ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা: উক্তিটি বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরীর (ছদ্মনাম: বীরবল)। তিনি কথ্য ভাষাকে সাহিত্যের ভাষায় উন্নীত করার পক্ষে ছিলেন এবং তার 'সবুজপত্র' পত্রিকার মাধ্যমে এই মত প্রচার করেন।

17. ‘ অক্ষির সমীপে’ এর সংক্ষেপণ হলো-

ক) (ক) সমক্ষ
খ) (খ) পরোক্ষ
গ) (গ) প্রত্যক্ষ
ঘ) (ঘ) নিরপেক্ষ
উত্তর: (ক) সমক্ষ
ব্যাখ্যা: 'অক্ষির সমীপে' অর্থাৎ চোখের সামনে, এর এক কথায় প্রকাশ বা সংক্ষেপণ হলো 'সমক্ষ'। এর বিপরীত হলো 'পরোক্ষ' (অক্ষির অগোচরে)। 'প্রত্যক্ষ' অর্থ যা ইন্দ্রিয় দ্বারা সরাসরি উপলব্ধি করা যায়।

18. উপসর্গের সঙ্গে প্রত্যয়ের পার্থক্য-

ক) (ক) অব্যয় ও শব্দাংশ
খ) (খ) নতুন শব্দ গঠনে
গ) (গ) উপসর্গ থাকে সামনে, প্রত্যয় থাকে পিছনে
ঘ) (ঘ) ভিন্ন অর্থ প্রকাশে
উত্তর: (গ) উপসর্গ থাকে সামনে, প্রত্যয় থাকে পিছনে
ব্যাখ্যা: উপসর্গ এবং প্রত্যয় উভয়ই শব্দাংশ (morpheme) এবং নতুন শব্দ গঠনে সাহায্য করে। তবে এদের মূল পার্থক্য হলো অবস্থানে। উপসর্গ শব্দের পূর্বে (সামনে) যুক্ত হয়, আর প্রত্যয় শব্দের পরে (পিছনে) যুক্ত হয়।

19. ‘তুমি এতক্ষণ কী করেছ?’ – এই বাক্যে ‘কী’ কোন পদ?

ক) (ক) বিশেষণ
খ) (খ) অব্যয়
গ) (গ) সর্বনাম
ঘ) (ঘ) ক্রিয়া
উত্তর: (গ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা: বাক্যে কোনো কিছু জানতে চাওয়ার জন্য যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক সর্বনাম বলে। এখানে 'কী' পদটি কোনো কাজের নাম বা পরিচয় জানতে ব্যবহৃত হয়েছে, যা বিশেষ্যের পরিবর্তে বসেছে। তাই এটি সর্বনাম পদ।

20. ‘আকাশে তো আমি রাখিনাই মোর উড়িবার ইতিহাস।’ – এই বাক্যে ‘ আকাশে’ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তির উদাহরণ?

ক) (ক) কর্তৃকারকে সপ্তমী
খ) (খ) কর্মকারকে সপ্তমী
গ) (গ) অপাদান কারকে তৃতীয়া
ঘ) (ঘ) অধিকরণ কারকে সপ্তমী
উত্তর: (ঘ) অধিকরণ কারকে সপ্তমী
ব্যাখ্যা: ক্রিয়ার আধারকে (স্থান, কাল, বিষয়) অধিকরণ কারক বলে। ক্রিয়াকে 'কোথায়' বা 'কখন' দিয়ে প্রশ্ন করলে অধিকরণ কারক পাওয়া যায়। এখানে 'কোথায় রাখিনাই?' উত্তর 'আকাশে'। তাই 'আকাশে' শব্দটি স্থানাধিকরণে সপ্তমী বিভক্তি।

আশা করি ২৪তম বিসিএস প্রশ্ন - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এর এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আপনার প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হবে। এ ধরনের আরও গুরুত্বপূর্ণ স্টাডি ম্যাটেরিয়াল, মডেল টেস্ট এবং পড়াশোনার আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য ক্যাটাগরিগুলো ঘুরে দেখতে পারেন। আপনার কোনো মতামত বা সংশোধন থাকলে অবশ্যই প্রতিটি প্রশ্নের নিচে দেওয়া 'রিপোর্ট' অপশন থেকে আমাদের জানাতে পারেন।

ভুল সংশোধন রিপোর্ট