Exams Study Jobs Teachers Students

চর্যাপদ (বাংলা সাহিত্য)

Bengali Lesson 10 Questions By Biddajatra-বিদ্যাযাত্রা

চর্যাপদ (বাংলা সাহিত্য) নিয়ে যারা পড়াশোনা বা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই পেজে 10টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নের সাথে সঠিক উত্তর এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া আছে, যা আপনার কনসেপ্ট ক্লিয়ার করতে সাহায্য করবে। মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন।

1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী?

ক) Buddhist Mystic Songs
খ) চর্যাগীতিকা
গ) চর্যাগীতিকোষ
ঘ) হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
উত্তর: Buddhist Mystic Songs
ব্যাখ্যা: ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫ - ১৯৬৯) সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ - 'Buddhist Mystic Songs' (১৯৬০) । তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অনুবাদ গ্রন্থ: দীওয়ান হাফিজ, অমিয়শতক, রুবাইয়াত - ই - ওমর খ্যায়াম , বিদ্যাপতি শতক, মহররম শরীফ, Hundred Sayings of the Holy Prophet । তার ভাষাতত্ত্ব বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ভাষা ও সাহিত্য, বাংলা ব্যাকরণ এবং বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত। তার সম্পাদনায় রচিত হয় - বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান ।

2. চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা কে?

ক) লুইপা
খ) শবর
গ) কাহ্নপা
ঘ) ডোভোম্বীপা
উত্তর: কাহ্নপা
ব্যাখ্যা: ✅ সঠিক উত্তর: কাহ্নপা চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন (৮ম–১২শ শতাব্দী পর্যন্ত)। এতে মোট ৪৭টি পদ পাওয়া গেছে, যেগুলো ২৩ জন সিদ্ধাচার্যের রচিত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন — কাহ্নপা (কণহপা)। কাহ্নপা বা কণহপা ছিলেন একজন সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ কবি। তাঁর রচিত পদসংখ্যা ১২টি, যা চর্যাপদের অন্যান্য কবিদের তুলনায় সর্বাধিক। অন্যান্য কবিদের পদসংখ্যা যেমন — লুইপা : ৮টি শবরপা : ৪টি ভোম্বীপা (ভুসুকুপা) : ৩টি 🟩 সুতরাং: চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা হলেন কাহ্নপা, কারণ তাঁর রচিত পদ সংখ্যা সর্বাধিক (১২টি), যা অন্যান্য কবিদের তুলনায় বেশি।

3. চর্যাপদ কী?

ক) গানের সংকলন
খ) কবিতা সংকলন
গ) কাব্যগ্রন্থ
ঘ) সবগুলোই
উত্তর: সবগুলোই
ব্যাখ্যা: 📚চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। - এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন। - ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।

4. কোন রাজবংশের আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়?

ক) পাল
খ) সেন
গ) মুঘল
ঘ) তুর্কী
উত্তর: পাল
ব্যাখ্যা: চর্যাপদ রচনা করেন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ । বাংলার পাল বংশের রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ । আর তাই তাদের আমলেই চর্যাগীতিকাগুলোর বিকাশ ঘটে।

5. 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল'' - পদটির রচয়িতা কে?

ক) ভুসুকুপা
খ) লুইপা
গ) কম্বলাম্বরপা
ঘ) ঢেণ্ডণপা
উত্তর: লুইপা
ব্যাখ্যা: 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল''- পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'। এটি চর্যাপদের প্রথম পদ। - তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন। লুইপা রচিত পদ: কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল। চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।। দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ লূই ভণই গুরু পূছিহ জাণ।।

6. চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন -

ক) হিন্দু পুরোহিত
খ) বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
গ) হিন্দু সাধকরা
ঘ) চার্চের যাজক
উত্তর: বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
ব্যাখ্যা: চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

7. 'চর্যাপদ' কোন ছন্দে রচিত বলে বিবেচনা করা হয়?

ক) পয়ার
খ) অক্ষরবৃত্ত
গ) মাত্রাবৃত্ত
ঘ) স্বরবৃত্ত
উত্তর: মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা: 'চর্যাপদ' মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত বলে বিবেচনা করা হয়?

8. 'চর্যাপদ' প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?

ক) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
খ) শ্রীরামপুর মিশন
গ) এশিয়াটিক সোসাইটি
ঘ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
উত্তর: বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
ব্যাখ্যা: বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন। - ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন। - ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।

9. 'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী' হাড়ীতে ভাত নাহি নিতি আবেশী' । চর্যাপদের এ চরণ দুটিতে কি বোঝানো হয়েছে?

ক) প্রতিবেশীর প্রতি ভালোবাসা
খ) আত্মীয়ের প্রতি ভালোবাসা
গ) দারিদ্র্যক্লিষ্ট জীবনের চিত্র
ঘ) একাকীত্বের কথা
উত্তর: দারিদ্র্যক্লিষ্ট জীবনের চিত্র
ব্যাখ্যা: ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন। তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন। - চর্যাপদের ৩৩নং পদটি তাঁর রচনা। - তাঁর রচিত পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। ঢেণ্ডণপা রচতি পদ: ‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী / হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।’

10. 'চর্যাপদ' কত সালে আবিষ্কৃত হয়?

ক) ১৮০০
খ) ১৮৫৭
গ) ১৯০৭
ঘ) ১৯০৯
উত্তর: ১৯০৭
ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষার প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন 'চর্যাপদ' মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কৃত হয় । বৌদ্ধ সহজিয়াগণের রচিত চর্যাপদ ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। চর্যার পুঁথিতে ৫১ টি গান ছিল, যার সাড়ে ৪৬ টি পাওয়া গেছে।

আশা করি চর্যাপদ (বাংলা সাহিত্য) এর এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আপনার প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হবে। এ ধরনের আরও গুরুত্বপূর্ণ স্টাডি ম্যাটেরিয়াল, মডেল টেস্ট এবং পড়াশোনার আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য ক্যাটাগরিগুলো ঘুরে দেখতে পারেন। আপনার কোনো মতামত বা সংশোধন থাকলে অবশ্যই প্রতিটি প্রশ্নের নিচে দেওয়া 'রিপোর্ট' অপশন থেকে আমাদের জানাতে পারেন।

ভুল সংশোধন রিপোর্ট