1. মনের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম কোনটি?
ক)
চিত্র
খ)
ভাষা
গ)
ইঙ্গিত
ঘ)
আচরণ
উত্তর:
ভাষা
ব্যাখ্যা:
মনের ভাব প্রকাশ করার মাধ্যম ভাষা।
বাগযন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকেই ভাষা বলে।
2. কোনটি ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়?
ক)
অর্থদ্যোতকতা
খ)
ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি
গ)
মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত ধ্বনি
ঘ)
জনসমাজে ব্যবহার যোগ্যতা
উত্তর:
ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি
ব্যাখ্যা:
ভাষার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য নয়—ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি।
3. ব্যাকরণ ও ভাষার মধ্যে কোনটি আগে সৃষ্টি হয়েছে?
ক)
ব্যাকরণ
খ)
ব্যাকরণ ও ভাষা একসাথে
গ)
ভাষা
ঘ)
কোনোটিই নয়
উত্তর:
ভাষা
ব্যাখ্যা:
ব্যাকরণ ও ভাষার মধ্যে ভাষা আগে সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ মনের ভাব প্রকাশের জন্য হাজার হাজার বছর ধরে ভাষা ব্যবহার করে আসছে, আর সেই ভাষাকে বিশ্লেষণ ও শৃঙ্খলিত করার প্রয়োজন থেকে পরবর্তী সময়ে ব্যাকরণ তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, ভাষা হলো প্রকৃত সৃষ্টি, আর ব্যাকরণ হলো সেই ভাষার নিয়মের লিখিত রূপ বা অনুগামী।
4. নির্দিষ্ট পরিবেশে মানুষের বস্তু ও ভাবের প্রতীক কোনটি?
ক)
ভাষা
খ)
শব্দ
গ)
ধ্বনি
ঘ)
বাক্য
উত্তর:
ভাষা
ব্যাখ্যা:
নির্দিষ্ট পরিবেশে মানুষের মনের ভাব এবং চারপাশের বস্তুকে প্রকাশ করার প্রধান মাধ্যম হলো ভাষা। মানুষের কণ্ঠনিসৃত অর্থবোধক ধ্বনি সমষ্টি যখন কোনো সমাজের বা নির্দিষ্ট পরিবেশে মানুষের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান করতে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে ভাষা বলা হয়। ভাষা কেবল শব্দের সমষ্টি নয়, বরং এটি চিন্তার প্রতীকী রূপ। একটি নির্দিষ্ট জনসমষ্টির কাছে কোনো একটি বস্তু বা ধারণার জন্য নির্দিষ্ট ধ্বনি বা শব্দ (যেমন: 'পানি' বা 'জল') সেই বস্তুর প্রতীক হিসেবে কাজ করে। তাই পরিবেশ ও সমাজভেদে মানুষের ভাব ও বস্তু প্রকাশের প্রধানতম বাহন হলো ভাষা।
5. বাংলা ভাষা কোন মূল ভাষার অন্তর্গত?
ক)
দ্রাবিড়
খ)
ইউরালীয়
গ)
ইন্দো-ইউরোপীয়
ঘ)
সেমেটিক
উত্তর:
ইন্দো-ইউরোপীয়
ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষা মূলত ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত। এই পরিবারের শতম শাখার ইন্দো-ইরানীয় উপশাখা থেকে ইন্দো-আর্য ভাষার মাধ্যমে বাংলা ভাষার উৎপত্তি। এটি ৭ম শতাব্দীতে মাগধী প্রাকৃত ও অপভ্রংশ থেকে বিবর্তিত হয়ে গঠিত হয়েছে।
6. কেন্তুমের কোন দুটি শাখা এশিয়ার অন্তর্গত?
ক)
হিত্তিক ও তুখারিক
খ)
তামিল ও দ্রাবিড়
গ)
আর্য ও অনার্য
ঘ)
মাগধী ও গৌড়ী
উত্তর:
হিত্তিক ও তুখারিক
ব্যাখ্যা:
কেন্তুম (Centum) ভাষা গোষ্ঠীর এশিয়ার অন্তর্গত প্রধান দুটি শাখা হলো হিত্তীক (Hittite/Anatolian) ও তুখারিক (Tocharian)।
7. বেদের ভাষাকে কি ভাষা বলা হয়?
ক)
দেশি ভাষা
খ)
বৈদিক ভাষা
গ)
বেদী ভাষা
ঘ)
ইংরেজি ভাষা
উত্তর:
বৈদিক ভাষা
ব্যাখ্যা:
বেদের ভাষাকে মূলত বৈদিক ভাষা বা বৈদিক সংস্কৃত বলা হয়।
8. বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে নিম্নোক্ত একটি ভাষা থেকে তা হলো-
ক)
সংস্কৃত
খ)
পালি
গ)
প্রাকৃত
ঘ)
অপভ্রংশ
উত্তর:
প্রাকৃত
ব্যাখ্যা:
সংস্কৃত থেকে নয়, প্রাকৃত ভাষা থেকেই উদ্ভব ঘটেছে বাংলা ভাষার।
9. কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে?
ক)
ভারতীয় আর্য
খ)
সংস্কৃত
গ)
ইন্দো-ইউরোপীয়
ঘ)
বঙ্গ-কামরূপী
উত্তর:
বঙ্গ-কামরূপী
ব্যাখ্যা:
ইন্দো-ইয়োরোপীয় মূলভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম। কিন্তু বাংলা ভাষার পূর্ববর্তী ভাষা স্তর জলো বঙ্গ কামরূপী।
10. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে বাংলা ভাষার উদ্ভবকাল-
ক)
৯৫০ খ্রিস্টাব্দ
খ)
৬৫০ খ্রিস্টাব্দ
গ)
৮৫০ খ্রিস্টাব্দ
ঘ)
৭৫০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর:
৬৫০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, বাংলা ভাষার উদ্ভবকাল হলো খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দী (আনুমানিক ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ)।
11. ভারতীয় ভাষার নিদর্শন যে গ্রন্থে পাওয়া যায়, তার নাম-
ক)
রামায়ণ
খ)
মহাভারত
গ)
ঋগ্বেদ
ঘ)
চর্যাপদ
উত্তর:
ঋগ্বেদ
ব্যাখ্যা:
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন পাওয়া যায় ঋগ্বেদ গ্রন্থে। খ্রিষ্ট-পূর্ব ১২০০-১০০০ অব্দের মধ্যে রচিত ঋগ্বেদের শ্লোকগুলোতে বৈদিক সংস্কৃত বা প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার রূপ পাওয়া যায়।
12. ভাষার মূল উপাদান কী?
ক)
অক্ষর
খ)
ধ্বনি
গ)
বর্ণ
ঘ)
শব্দ
উত্তর:
ধ্বনি
ব্যাখ্যা:
ভাষার মূল উপাদান বা ক্ষুদ্রতম একক হলো ধ্বনি।
13. বাংলাদেশ ছাড়া আর কোন অঞ্চলের মানুষের সর্বজনীন ভাষা বাংলা ভাষা?
ক)
আসাম
খ)
পশ্চিমবঙ্গ
গ)
গুজরাট
ঘ)
উত্তর প্রদেশ
উত্তর:
পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, এবং আসামের বরাক উপত্যকা অঞ্চলের মানুষের মাতৃভাষা ও সর্বজনীন ভাষা বাংলা।
14. বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন কোনটি?
ক)
মহাভারত
খ)
চর্যাপদ
গ)
রামায়ণ
ঘ)
জঙ্গনামা
উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হলো চর্যাপদ। এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাধন-সংগীতের সংকলন, যা খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত হয়েছিল।
15. এক এক গোষ্ঠীর মধ্যে নিয়ম শৃঙ্খলাজাত ধ্বনিপুঞ্জকে কী বলে?
ক)
ধ্বনি
খ)
শব্দ
গ)
বর্ণ
ঘ)
ভাষা
উত্তর:
ভাষা
ব্যাখ্যা:
এক এক গোষ্ঠীর মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলাজাত ধ্বনিপুঞ্জকে ভাষা (Language) বলা হয়।
16. কিসের ভেদে ভাষার পার্থক্য ও পরিবর্তন ঘটে?
ক)
দেশ ও কালভেদে
খ)
দেশ, কাল ও ব্যক্তিভেদে
গ)
কাল, পরিবেশ ও ব্যক্তিভেদে
ঘ)
দেশ, কাল ও পরিবেশভেদে
উত্তর:
দেশ, কাল ও পরিবেশভেদে
ব্যাখ্যা:
দেশ, কাল, পরিবেশ, ভৌগোলিক অবস্থান, এবং সাংস্কৃতিক ভিন্নতার কারণে মানুষের ভাষার মধ্যে পার্থক্য ও পরিবর্তন ঘটে।
17. বাংলা গদ্য কোন যুগের ভাষার নিদর্শন?
ক)
প্রাচীন যুগ
খ)
মধ্যযুগ
গ)
অন্ধকার যুগ
ঘ)
আধুনিক যুগ
উত্তর:
আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা:
বাংলা গদ্য মূলত বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের (১৮০০ সালের পর থেকে) ভাষার নিদর্শন, যা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের হাত ধরে সুসংহত রূপ পায়।
18. 'প্রাকৃত' শব্দটির অর্থ -
ক)
প্রকৃত
খ)
যথার্থ
গ)
যা করা হয়েছে
ঘ)
স্বাভাবিক
উত্তর:
স্বাভাবিক
ব্যাখ্যা:
'প্রাকৃত' শব্দের অর্থ হলো স্বাভাবিক, প্রাকৃতিক, সাধারণ বা জনসাধারণের ভাষা। এটি ‘প্রকৃতি’ শব্দ থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ প্রকৃতি বা সাধারণ জনগণের ভাষা।
19. 'প্রাকৃত' শব্দের ভাষাগত অর্থ-
ক)
মূর্খদের ভাষা
খ)
পণ্ডিতদের ভাষা
গ)
জনগণের ভাষা
ঘ)
লেখকদের ভাষা
উত্তর:
জনগণের ভাষা
ব্যাখ্যা:
'প্রাকৃত' শব্দের অর্থ হলো স্বাভাবিক, প্রাকৃতিক, সাধারণ বা জনসাধারণের ভাষা। এটি ‘প্রকৃতি’ শব্দ থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ প্রকৃতি বা সাধারণ জনগণের ভাষা।
20. 'বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে মাগধী প্রাকৃত থেকে।' এ মতের প্রবক্তা কে?
ক)
স্যার জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
খ)
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
গ)
ড. সুকুমার সেন
ঘ)
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষার জন্ম মাগধী প্রাকৃত থেকে হয়েছে—এ মতের প্রধান প্রবক্তা হলেন প্রখ্যাত ভাষাতাত্ত্বিক ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। তিনি তাঁর ODBL (The Origin and Development of the Bengali Language) গ্রন্থে প্রমাণ করেছেন যে, মাগধী প্রাকৃতের পূর্বতর রূপ (গৌড় প্রাকৃত) থেকে মাগধী অপভ্রংশের মাধ্যমে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে।