1. অব্যয়ীভাব সমাস কোন পদ প্রধান?
ক)
ভিন্নপদ
খ)
উভয়পদ
গ)
পরপদ
ঘ)
পূর্বপদ
উত্তর:
পূর্বপদ
ব্যাখ্যা:
অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদ প্রধান থাকে।
2. অর্থ প্রাধান্যের দিক থেকে কর্মধারয়-এর বিপরীত সমাস কোনটি?
ক)
তৎপুরুষ
খ)
দ্বন্দ্ব
গ)
অব্যয়ীভাব
ঘ)
বহুব্রীহি
উত্তর:
অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা:
অব্যয়ীভাব সমাস হলো পূর্বপদ প্রধান। আর কর্মধারয় সমাস হলো পর পদ প্রধান।
3. অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
ক)
দর্শনমাত্র
খ)
পকেটমার
গ)
উপকূল
ঘ)
কুলাকানী
উত্তর:
উপকূল
ব্যাখ্যা:
'উপকূল' শব্দটি অব্যয়ীভাব সমাস। কারণ, এর ব্যাসবাক্য হলো কূলের সমীপে।
4. সামীপ্য অর্থে কোথায় অব্যয়ীভাব সমাস হয়েছে?
ক)
উপকূল
খ)
আগত
গ)
গরমিল
ঘ)
উপদ্বীপ
উত্তর:
উপকূল
ব্যাখ্যা:
সামীপ্য বা নৈকট্য (কাছাকাছি) অর্থে 'উপ' উপসর্গ যোগে উপকূল শব্দটিতে অব্যয়ীভাব সমাস হয়েছে।
5. অভাব অর্থে অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
ক)
নির্ভাবনা
খ)
উচ্ছৃঙ্খল
গ)
অনুক্ষণ
ঘ)
প্রতিপক্ষ
উত্তর:
নির্ভাবনা
ব্যাখ্যা:
অভাব অর্থে অব্যয়ীভাব সমাসের প্রধান উদাহরণগুলো হলো বেমানান (মানানের অভাব), নিৰ্ভাবনা (ভাবনার অভাব), দুর্ভিক্ষ (ভিক্ষার অভাব), আলুনি (লবণের অভাব) এবং হাভাত (ভাতের অভাব)।
6. 'গরমিল' এর সঠিক ব্যাসবাক্য-
ক)
অমিলের সদৃশ
খ)
মিলের অভাব
গ)
মিল ও অমিল
ঘ)
অমিল রূপের ন্যায়
উত্তর:
মিলের অভাব
ব্যাখ্যা:
'গরমিল' শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য হলো মিলের অভাব। এটি একটি অব্যয়ীভাব সমাস।
7. কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ?
ক)
আমৃত্যু
খ)
দর্শনমাত্র
গ)
জীবনমৃত
ঘ)
সফল
উত্তর:
আমৃত্যু
ব্যাখ্যা:
আমৃত্যু শব্দটি অব্যয়ীভাব সমাস। এর ব্যাসবাক্য হলো "মরণ পর্যন্ত" বা "মৃত্যু পর্যন্ত"।
8. সাদৃশ্য বুঝাতে অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
ক)
উপগ্রহ
খ)
উপশহর
গ)
উপবন
ঘ)
সবকটি
উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা:
সাদৃশ্য বা মত অর্থে ব্যবহৃত অব্যয়ীভাব সমাসের প্রধান উদাহরণ হলো উপদ্বীপ (দ্বীপের সদৃশ)। এছাড়া আরও কিছু উদাহরণ হলো উপকথা (কথার সদৃশ), প্রতিমূর্তি (মূর্তির সদৃশ), উপগ্রহ (গ্রহের তুল্য), এবং উপবন (বনের সদৃশ)।
9. উপনদী সমস্ত পদের 'উপ' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
ক)
ক্ষুদ্র
খ)
অভাব
গ)
সামীপ্য
ঘ)
সাদৃশ্য
উত্তর:
ক্ষুদ্র
ব্যাখ্যা:
'উপনদী' (উপ + নদী) সমস্তপদে 'উপ' উপসর্গটি ক্ষুদ্র অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
10. 'উদ্বেল' কী অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস?
ক)
আবেগ
খ)
অতিক্রান্ত
গ)
বীপ্সা
ঘ)
সামীপ্য
উত্তর:
অতিক্রান্ত
ব্যাখ্যা:
'উদ্বেল' শব্দটি অতিক্রম (বা অতিক্রান্ত) অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়েছে।
11. কোনটি 'ঈষৎ' অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস?
ক)
আরক্তিম
খ)
আগমন
গ)
আজীবন
ঘ)
আপাদমস্তক
উত্তর:
আরক্তিম
ব্যাখ্যা:
ঈষৎ বা অল্প অর্থে ব্যবহৃত অব্যয়ীভাব সমাসগুলো হলো— আরক্তিম (ঈষৎ রক্তিম), আনত (ঈষৎ নত), এবং আশৈশব (ঈষৎ শৈশব)।
12. 'উপ' কোন ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র অর্থ জ্ঞাপক?
ক)
উপকণ্ঠ
খ)
উপকূল
গ)
উপস্থিত
ঘ)
উপনেতা
উত্তর:
উপনেতা
ব্যাখ্যা:
'উপ' উপসর্গটি মূলত ক্ষুদ্রতা, সাদৃশ্য বা নিকটতা অর্থে ব্যবহৃত হয়ে ক্ষুদ্র অর্থ প্রকাশ করে।
13. কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসজাত শব্দ?
ক)
নরাধম
খ)
অকূল
গ)
যথারীতি
ঘ)
সবান্ধব
উত্তর:
যথারীতি
ব্যাখ্যা:
যথারীতি শব্দটি অব্যয়ীভাব সমাস। এর ব্যাসবাক্য হলো "রীতিকে অতিক্রম না করে" বা "রীতি অনুযায়ী"।
14. প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
ক)
প্রতিবাদ
খ)
প্রত্যুত্তর
গ)
প্রতিচ্ছবি
ঘ)
প্রতিবিম্ব
উত্তর:
প্রত্যুত্তর
ব্যাখ্যা:
প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থে ব্যবহৃত অব্যয়ীভাব সমাস হলো প্রতিপক্ষ এবং প্রত্যুত্তর।
15. 'প্রতিনিধি' অর্থে অব্যয়ীভাব সমাসের সমস্তপদ কোনটি?
ক)
প্রত্যুত্তর
খ)
প্রতিচ্ছায়া
গ)
প্রতিবাদ
ঘ)
প্রতিপক্ষ
উত্তর:
প্রতিচ্ছায়া
ব্যাখ্যা:
'প্রতিনিধি' বা সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাসের সমস্তপদগুলো হলো— প্রতিচ্ছবি, প্রতিচ্ছায়া, প্রতিবিম্ব (ছবির প্রতিনিধি)।
16. উপসর্গ যোগে গঠিত হয়-
ক)
প্রাদি সমাস
খ)
রূপক কর্মধারয়
গ)
নিত্য সমাস
ঘ)
উপমিত কর্মধারয়
উত্তর:
প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা:
উপসর্গ যোগে মূলত প্রাদি সমাস গঠিত হয়। প্র, পরা, অনু, নি, অতি ইত্যাদি উপসর্গের সাথে কৃৎ প্রত্যয়সাধিত বিশেষ্য পদের সমাস হলে তাকে প্রাদি সমাস বলে, যেমন: প্র (প্রকৃষ্টরূপে) + কৃত = প্রকৃত।
17. নিচের কোনটি প্রাদি সমাস?
ক)
উপকূল
খ)
দোমনা
গ)
প্রবচন
ঘ)
আনত
উত্তর:
প্রবচন
ব্যাখ্যা:
'প্রবচন' শব্দটি প্রাদি সমাস (বা প্রাদি তৎপুরুষ)। এর ব্যাসবাক্য হলো—প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন।
18. কোনটি প্রাদি ও অব্যয়ীভাব এ উভয় সমাসই হয়?
ক)
পরিভ্রমণ
খ)
প্রভাব
গ)
অতিমানব
ঘ)
উদাস
উত্তর:
পরিভ্রমণ
ব্যাখ্যা:
উদ্বেল (উত্/উত্ + বেলা) শব্দটি প্রাদি ও অব্যয়ীভাব—উভয় সমাসেই সিদ্ধ। এছাড়াও ‘প্র’ উপসর্গযুক্ত কিছু শব্দ (যেমন: প্রগতি, প্রভাত) এবং ‘পরি’ উপসর্গযুক্ত ‘পরিভ্রমণ’ শব্দগুলো ক্ষেত্রবিশেষে উভয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হয়।
19. কোন সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে?
ক)
অলুক
খ)
প্রাদি
গ)
নিত্য
ঘ)
দ্বিগু
উত্তর:
নিত্য
ব্যাখ্যা:
নিত্য সমাস-এ সমস্যমান পদগুলো সবসময় সমাসবদ্ধ বা মিলিত অবস্থায় থাকে এবং এদের আলাদা করে কোনো ব্যাসবাক্য হয় না; ব্যাসবাক্য করতে হলে অন্য পদের সহায়তা নিতে হয় (যেমন: অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর)।
20. কোনটি নিত্য সমাসের সমস্ত পদ?
ক)
সেতার
খ)
গৃহান্তর
গ)
বেতার
ঘ)
সহোদর
উত্তর:
গৃহান্তর
ব্যাখ্যা:
'গৃহান্তর' শব্দটি নিত্য সমাস-এর উদাহরণ।
21. 'আমরা' কোন সমাসের উদাহরণ?
ক)
দ্বিগু
খ)
নিত্য
গ)
দ্বন্দ্ব
ঘ)
কর্মধারয়
উত্তর:
নিত্য
ব্যাখ্যা:
তুমি, আমি ও সে = আমরা, এটি নিত্য সমাস।
22. নিচের কোনটি নিত্য সমাসের উদাহরণ নয়?
ক)
যুগান্তর
খ)
দেশান্তর
গ)
গ্রামান্তর
ঘ)
তেপান্তর
উত্তর:
তেপান্তর
ব্যাখ্যা:
'তেপান্তর' (তিন প্রান্তরের সমাহার) হলো দ্বিগু সমাস।
23. বিরানব্বই কোন সমাসের উদাহরণ?
ক)
দ্বিগু
খ)
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
গ)
অব্যয়ীভাব
ঘ)
নিত্য
উত্তর:
নিত্য
ব্যাখ্যা:
'বিরানব্বই' হলো নিত্য সমাস। এর ব্যাসবাক্য হলো 'দুই এবং নব্বই'।
24. কয়টি সমাসের সাথে 'অলুক' কথাটি যুক্ত আছে?
ক)
৩
খ)
২
গ)
৪
ঘ)
৬
উত্তর:
৩
ব্যাখ্যা:
অলুক কথাটি মূলত ৩টি সমাসের সাথে যুক্ত আছে। সমাসগুলো হলো:
১. অলুক দ্বন্দ্ব (যেমন: দুধে-ভাতে, দেশে-বিদেশে)
২. অলুক তৎপুরুষ (যেমন: হাতের পাঁচ, কলের গান)
৩. অলুক বহুব্রীহি (যেমন: গায়ে-হলুদ, মাথায়-পাগড়ি)।
25. যে সমাসের ব্যাসবাক্য হয় না কিংবা তা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে বলা হয়-
ক)
দ্বন্দ্ব সমাস
খ)
অব্যয়ীভাব সমাস
গ)
কর্মধারয় সমাস
ঘ)
নিত্য সমাস
উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা:
যে সমাসের সাধারণত কোনো ব্যাসবাক্য হয় না কিংবা ব্যাসবাক্য করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলা হয়। এই সমাসের সমস্যমান পদগুলো সবসময় সমাসবদ্ধ থাকে এবং এদের ব্যাসবাক্য করার জন্য অন্য পদের সাহায্য প্রয়োজন হয়। যেমন: অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, আমি, তুমি ও সে = আমরা।